সঙ্গীর নাক ডাকার আওয়াজে ঘুমের দফারফা! ঘরোয়া টোটকায় কাজ হবে নিমেষে

রাতের নিস্তব্ধতা খানখান হয়ে যাচ্ছে একটা শব্দে, ঘরররর…! কখনও কমছে, কখনও বাড়ছে। হ্যাঁ, নাক ডাকার আওয়াজ। এখন বিছানার সঙ্গী যদি এমন কর্ণবিদারক শব্দে নাক ডাকে তাহলে পাশের জনের কী হয়! ঘুম তো চৌপাট। একেবারে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।


শ্বাসনালীর উপরের টিস্যুগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ঘষা খায় বা কাঁপে, তখন যে শব্দ হয় সেটাকেই নাক ডাকা বলে। মধ্যবয়সীদের এটা খুব সাধারণ সমস্যা। তবে এর ফল সাধারণ নয় মোটেই। যাঁদের নাক ডাকে তাঁদের ঘুম খুব পাতলা হয়। বারবার ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো সমস্যাও থাকে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। কখনও কখনও এর ফলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। অর্থাৎ ঘুমের মধ্যেই ছোবল মারে মৃত্যু। কিছু ঘরোয়া টোটকা নাক ডাকার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

পিপারমেন্ট তেল: এই তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য। এটা নাক এবং শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে নাক ডাকা এবং হালকা স্লিপ অ্যাপনিয়া সম্পর্কিত উপসর্গগুলি হ্রাস পায়।

ইউক্যালিপটাস তেল: এই তেল শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাক্ট এবং সাইনাসে জমে থাকা শ্লেষ্মাকে ভেঙে দেয়। ফলে সাইনাস এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া অনেক সহজ হয়। মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে এক বাটি গরম জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল নিয়ে তার ঘ্রাণটা টানতে হবে।

পলাশ: নাক ডাকা নিরাময়ে পলাশের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অনেক সময় বন্ধ নাকের কারণে নাক ডাকার আওয়াজ হয়। পলাশ গাছের ছালের কাত্থ করে তাতে নুন মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

মুস্তা: প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ঠান্ডা লেগে গেলেও মুস্তা দারুণ কাজ দেয়। মুস্তার গুঁড়ো দুধে সেদ্ধ করে নিয়মিত সেবন করলে উপকার মেলে।

কালো মরিচ: বন্ধ নাক খুলে ফেলতে এর জুড়ি নেই। শুধু তাই নয়, এটা নাক ডাকার সমস্যা থেকেও এক নিমেষে মুক্তি দিতে পারে। সমপরিমাণ কালো মরিচ, এলাচ, জিরো এবং দারুচিনি মিশিয়ে মিহি গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর পাউডারটা দিতে ৪ থেকে ৫ বার নস্যির মতো টানলেই ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

স্পাইডার ওয়ার্ট: এটা এক ধরনের ভেষজ। প্রথমে এই গাছ গুঁড়ো করে নিতে হয়। তারপর সেটা জলে সেদ্ধ করে শ্বাস নিতে হয়। এটা নাক ডাকা, সর্দি এবং কাশি থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম।

ভালো লাগল অবশ্যই আমাদের সাথে থাকবেন।